শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
Bangladesh Age
সর্বশেষ
কাশিয়ানীতে শ্রেষ্ঠ 'অদম্য নারী পুরস্কার' পেলেন রোকেয়া বেগম

কাশিয়ানীতে শ্রেষ্ঠ 'অদম্য নারী পুরস্কার' পেলেন রোকেয়া বেগম

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এক অদম্য নারীকে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে একই স্থানে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লাকসানা লাকির সঞ্চালনায় আলোচনা সভা এবং সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ শ্লোগানে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাহার শাকিল বলেন, “নারী মানেই সক্ষম, নারী মানেই শক্তি। সুযোগ এবং সহায়ক পরিবেশ পেলে মেয়েরা শুধু নিজেদের নয়, সমাজকেও পরিবর্তন করতে পারে।” সফল জননী সম্মাননা লাভ নিঃসন্দেহে উপজেলাকে নারী সমাজকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আরও অনুপ্রাণিত করবে।এসময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বজলুর রশিদ কনক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল আলম মুন্না, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল আলম মুরাদ, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি লিটন সিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।আলোচনা সভার পরে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এক অদম্য নারীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। উপজেলার শ্রেষ্ঠ এক অদম্য নারী হলেন- রোকেয়া বেগম, সফল জননী হিসেবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, পিতা: শফিউদ্দিন মোল্লা, মাতা: আমেনা খাতুন।পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, "এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, আমার জন্মভূমি কাশিয়ানী তথা উপজেলার মানুষের অবদানেই আজকের আমি।"
১০ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনা মূল্যে

সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনা মূল্যে
সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্তের এনএস-ওয়ান পরীক্ষা বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গতকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শাখা-১) কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে পাঠানো হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে রেজিস্ট্রেশন করা রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এনএস-ওয়ান পরীক্ষা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে সম্মতি দিয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে ৫৭ হাজার ৭৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ২৪৩ জন।

স্তন ক্যানসার সচেতনতায় হিমলুং অভিযানে যাচ্ছেন নিম্মি

স্তন ক্যানসার সচেতনতায় হিমলুং অভিযানে যাচ্ছেন নিম্মি
হিমালয়ের ‘হিমলুং’ পর্বত শিখরে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন দেশের নারী পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্মি। ৩০ দিনের এই অভিযানে শনিবার (আজ) নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।শুক্রবার (গতকাল) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযাত্রী নুরুননাহার নিম্মির হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার ‘হিমলুং হিমাল’ পর্বত শিখর তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের মানাসলু অঞ্চলে অবস্থিত। ‘হিমলুং হিমাল’ পর্বত শিখর অভিযানটি পরিচালনা করছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং স্পনসর করছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।হিমলুং শিখরে এটি ক্লাবের দ্বিতীয় অভিযান উল্লেখ করে অভিযানটি নিয়ে মুহিত বলেন, ক্লাবের পক্ষ থেকে এর আগেও পর্বতটিতে অভিযান হয়েছে। সেবার সফল হয়েছি। নিম্মি খুবই এনার্জেটিক, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পর্বতারোহী। তাঁকে নিয়ে খুব আশাবাদী আমরা। সবকিছু অনুকূলে থাকলে তিনি দেশের পতাকার গৌরব ধরে রাখবেন।নুরুননাহার নিম্মি পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা। পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। অবসর পেলেই পর্বত অভিযানে অংশ নেন। নিম্মি ভারতে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ শেষ করে ৬ হাজার মিটারের একটি পর্বতে অভিযান করেছেন।এই প্রথম ৭ হাজার মিটার উচ্চতার কোনো পর্বত শিখরে যাচ্ছেন তিনি।নিম্মি বললেন, ‘এটা আমার চ্যালেঞ্জিং। প্রথমবারের মতো ৭ হাজার মিটারের পর্বতে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আশা করি দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারব।’অক্টোবরজুড়ে বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। ‘রাইজ ফর হার’ স্লোগানে নিম্মিও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের বার্তা নিয়ে হিমলুং অভিযানে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, রাইজ ফর হার স্লোগানটি মূলত ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা প্রত্যেক নারীকে উৎসর্গ করতে চাই। ভয়াবহ দুঃস্মৃতি বহন করা প্রত্যেক নারীকে শক্তির বার্তা দিতে আমি এই পর্বত শিখরে যাচ্ছি। হিমলুংয়ের সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে স্তন ক্যানসার নিয়ে একটি বার্তা দিতে চাই।এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৬ হাজার ১৬১ মিটারের আইল্যান্ড পিক চূড়ায় পা রাখেন নিম্মি।

সব তারকা-সন্তান সবকিছু সহজে পান না

সব তারকা-সন্তান সবকিছু সহজে পান না
২০১৯ সালে ‘নোটবুক’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্রনূতনের অভিষেক। সালমান খানের ব্যানারে নির্মিত ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন জাহির ইকবাল। ২০২১ সালে করেন ‘হেলমেট’ আর ২০২৪ সালে ‘অমর প্রেম কি প্রেম কাহানি’। নোটবুক ছাড়া বাকি দুই ছবি ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছিল। ফিল্মি পরিবারের মেয়ে হয়েও আর পাঁচটা তারকা-সন্তানের মতো তাঁর ফিল্মি ভ্রমণটা যে মোটেও সহজ ছিল না, তার প্রমাণ ছয় বছরে মাত্র তিনটি ছবি। ‘নোটবুক’ ছবিতে প্রনূতনের অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। নবাগত হয়েও সবার নজর কেড়েছিলেন। তারপরও আজও সেভাবে নাম, যশ, অর্থ অর্জন করতে পারেননি প্রনূতন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এ ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা মনীশ বহেলের কন্যা।সহজ পথ নয়সিনেমার আবহে প্রনূতনের বেড়ে ওঠা। তাঁর আশপাশের সবাই ফিল্মি পরিবারের সদস্য। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী নূতনের নাতনি। অভিনেতা মনীশ বহেলের মেয়ে। তাই সিনেমার দুনিয়ায় পা রাখার আগেই প্রনূতন জানতেন, মোটেও সহজ নয় এই পথ।  প্রনূতন। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমার আশপাশের সবাই শিল্পী, তাই আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এমনও সময় আসতে পারে, যখন আপনার হাতে কোনো কাজ থাকবে না। আর আমাকে এ ধরনের সতর্কবাণী অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। অনেকে আছেন, যাঁদের মা–বাবা বা কেউ ইন্ডাস্ট্রির নন, তাঁরা শুরুতে এসব বুঝতে পারেন না। তাই তাঁদের জন্য যাত্রাটা আবেগময় এবং কঠিন হয়ে ওঠে।’লাভ-লোকসানপ্রনূতন ক্যারিয়ারের লাভ-লোকসানের হিসাব মেলাতে বসে দেখেছেন, লাভের চেয়ে তাঁর ক্ষতি বেশি হয়েছে। ফিল্মি পরিবারের হওয়ার কারণে নিশ্চয় বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, স্বীকার করেন মনীশ-কন্যা। নিজেকে পর্দার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে হয়তো এ কারণে অনেক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয়েছে, মনে করেন প্রনূতন। তাঁর ভাষ্যে, ‘প্রত্যেক তারকা-সন্তান ইন্ডাস্ট্রিতে সহজে জায়গা পান না। সবার জন্য এই পথ সহজ নয়। এর জ্বলন্ত উদাহরণ আমি নিজে। অভিনেতার মেয়ে বলে সবকিছু সহজে পেয়ে গেছি, তা কখনো নয়। আর এমন নয় যে আমাকে দাঁড় করানোর জন্য আমার বাবা পেছন থেকে টাকা ঢেলেছেন।’নিজের শর্তে২০১৬ সাল থেকে ক্রমাগত অডিশন দিয়ে এসেছেন বলে জানান প্রনূতন। অবশেষে ২০১৯ সালে তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি নোটবুক মুক্তি পায়।শুরুর সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমাকেও মানসিক উত্থান-পতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে আমার জন্য মোটেও এসব ধাক্কা ছিল না। ২০১৬ থেকে অডিশন দেওয়া শুরু করে ২০১৮ সালে আমি প্রথম সুযোগ পেয়েছিলাম। আমাকে অনেক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখনো অডিশন দিয়ে যাচ্ছি। কিছুদিন আগেই একটা সিনেমার জন্য অডিশন দিয়েছি।’

তরুণদের ডায়াবেটিস এক অশনিসংকেত

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের তরুণ বলা হয়। বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে এই তরুণদের মধ্যেও বিভিন্ন রকমের নন-কমিউনিকেবল রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। আগে মনে করা হতো, ডায়াবেটিস বয়স্ক মানুষের রোগ। কিন্তু এখন অল্প বয়সী তরুণদের মধ্যেও এই রোগ হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।এদের মধ্যে টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু—উভয় ধরনের ডায়াবেটিসই দেখা যায়। তবে টাইপ টুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রায় ৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২৫ জনে ১ জন তরুণ-তরুণী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের অর্ধেকের বেশি জানেই না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে। কারণ, ডায়াবেটিস হলে শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না।ডায়াবেটিসের লক্ষণশরীর দুর্বল লাগাঘন ঘন ক্ষুধা লাগাকারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়াবারবার পিপাসা পাওয়াশরীরে ব্যথা হওয়াঘন ঘন প্রস্রাব হওয়াক্ষত শুকাতে দেরি হওয়াচর্মরোগের প্রাদুর্ভাবমেজাজ খিটখিটে হওয়াজটিলতাদীর্ঘ মেয়াদে রক্তে উচ্চমাত্রার সুগার থাকলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিস ফুটের মতো জটিল সমস্যা। এখন তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে এসব সমস্যা বাড়ছে; যা তরুণদের অল্প বয়সে বৃদ্ধদের কাতারে ফেলে দিচ্ছে। এমনিতেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি। সেই সঙ্গে তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়তি হতাশা যোগ করেছে। অল্প বয়সে দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে তারা পরিবার এবং দেশের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।ঝুঁকিতে কারাডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছেশারীরিক ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশিশারীরিক পরিশ্রম নেইইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছেরক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি এবং উচ্চ রক্তচাপ আছেযেসব মেয়ের পিসিওএস আছেঅনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসঅনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসমানসিক বিষণ্নতাবেশির ভাগ তরুণের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডায়াবেটিসের শুরুতে রক্তে উচ্চমাত্রায় সুগার পাওয়া যায়। কারণ, তারা বা পরিবারের লোকজন কখনো চিন্তাও করে না যে এত অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের শুরুতেই তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। যদি কোনো লক্ষণ দেখাও যায়, সে ক্ষেত্রে তরুণেরা এটাকে শারীরিক দুর্বলতা ভাবে। এই দুর্বলতা কাটাতে তারা নিজেরা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সুগার আরও বাড়তে থাকে।প্রতিরোধডায়াবেটিস একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবার আগে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়ামসহ সবকিছুতে তরুণদের ব্যাপক অনিয়ম দেখা যায়; যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত করছে।বর্তমান সময়ে তরুণদের খাবারের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে ফাস্ট ফুড। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়ার কারণে তারা অল্প বয়সে মুটিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সব ফাস্ট ফুডই উচ্চ শর্করা এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত; যা তাদের ওবেসিটির অন্যতম কারণ। এর ফলে তাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ছে, উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে, মেয়েদের পিসিওএস হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই তরুণদের ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে, বাসায় তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারে আগ্রহী করে তুলতে হবে।তরুণদের জীবনযাপনের আরেকটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে ঘুম। তাঁরা বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। বেশির ভাগ তরুণই রাত ৩টা বা ৪টার আগে ঘুমান না। আমরা জানি, রাতে দেরি করে ঘুমালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগ ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলেই হয়ে থাকে।তাই তাদের রাতের আঁধারে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস করতে হবে।এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে এখন মানসিক বিষণ্নতাও বাড়ছে। বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা তরুণদের স্কুল/কলেজ, কোচিং, টিউশনের বাইরে অন্য কোনো কোথাও রাখতে চান না। এ জন্য তাদের ডিভাইস আসক্তি বাড়ে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য তাদের খেলাধুলার সময় এবং জায়গা—কোনোটাই থাকে না। নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগও তেমন থাকে না; যা তরুণদের বিষণ্নতার অন্যতম কারণ।করণীয়ডায়াবেটিসকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বলা হয়। এটি কখনো ভালো হয় না, তবে চাইলে ভালো রাখা যায়। তবে ভালো রাখতে হলে আপনাকে ডায়েট, ডিসিপ্লিন ও ড্রাগ—এই তিন জিনিসের সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। তবে আপনি এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।সে কারণে তরুণদের ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের সারা দিনের খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হেলথ চেকআপ করাতে হবে। প্রয়োজন হলে ওষুধ/ইনসুলিন নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া রাতের প্রথম ভাগে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।তরুণদের এই ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া দেশের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। তরুণেরা আগামীর কান্ডারি। তারা এত অল্প বয়সে এমন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হলে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়বে। কারণ, দেশের প্রতিটি কল্যাণকর এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সুস্থ তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি থাকতে হবে।লেখক: সিনিয়র পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল 

গলাব্যথার সবচেয়ে অবহেলিত কারণ টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস

গলাব্যথায় আমরা প্রায় সবাই কখনোনা কখনো আক্রান্ত হয়েছি। অনেকে এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করে থাকেন। কিন্তু এই ব্যথা হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ রোগ হলো টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস। এটি ফ্যারিক্স ও টনসিলের একযোগে সংক্রমণ, যা হঠাৎ করেই শুরু হয়ে যায় এবং রোগীকে অনেকটা দুর্বল করে দেয়।সহজ ভাষায় বলতে গেলে গলার পেছনের অংশ ফ্যারিঙ্ক্স এবং দুই পাশে থাকা প্যালাটাইন টনসিলের সংক্রমণকে টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস বোঝায়।উপসর্গটনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস রোগীদের সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন গলাব্যথা, গিলতে কষ্ট, গলার পাশের লিম্ফ নোড ফোলা, মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা জ্বালাপোড়া করা, জ্বর ও শরীর দুর্বল লাগা। শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় খাওয়ার অনীহা, এমনকি শিশুদের পেটের অস্বস্তি এবং বমির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।ইনফেকশনের কারণএ রোগের সবচেয়ে পরিচিত জীবাণুর নাম হলো গ্রুপ এ বিটা-হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হওয়ার কারণেও টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে। এ ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি-হাঁচি, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কিংবা দূষিত জিনিসপত্র ব্যবহার করলেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।রোগনির্ণয়চিকিৎসকেরা সাধারণত উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করেন। গলা লালচে হয়ে যায়, গলার পেছনের ত্বক উজ্জ্বল লাল রং ধারণ করে। এ ছাড়া গলার পেছনে শ্লেষ্মা কিংবা কফ জমে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে গলার সোয়াব কালচার টেস্ট করা হয়। এতে বোঝা যায়, ব্যাকটেরিয়া নাকি ভাইরাস দায়ী।চিকিৎসাচিকিৎসা নির্ভর করে উপসর্গ এবং এর কারণের ওপর। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার প্রয়োজন হয় না। তবে বিশ্রাম, গরম পানির গার্গল করলে এর উপশম হতে পারে। এ ছাড়া প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ এর উপশমে সাহায্য করে। স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণ: এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক অপরিহার্য। সঠিক ডোজে এবং পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।অবহেলার ঝুঁকিআমাদের মনে রাখা জরুরি, প্রাথমিক যত্ন নিলেই টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস সহজে ভালো হয়ে যায়। তবে অবহেলা করলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।এ ছাড়া সময়মতো চিকিৎসা না নিলে টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস থেকে টনসিলে ফোড়া এবং কানে ব্যথা হতে পারে।আবার স্ট্রেপটোকক্কাস জীবাণু হৃদ্‌পিণ্ড, কিডনি অথবা জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই অবহেলা না করে দ্রুততম সময়ে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।প্রতিরোধহাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেলেগলাব্যথা কিংবা কাশি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময় ঠান্ডা পানীয়, সফট ড্রিংক, আইসক্রিম এড়িয়ে চলাই ভালো।গলাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। টনসিলোফ্যারিঞ্জাইটিস দ্রুত শনাক্ত এবং চিকিৎসা করলে রোগী শিগগির সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন জটিলতাও এতে এড়ানো যায়।লেখক: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

‘সাত ভাই চম্পা’ শুরুতে ছিল ধারাবাহিক, পরে হলো ওয়েব সিনেমা, এখন সিনেমা হিসেবে হলে মুক্তি পেল। গল্পটা কি সিনেমা হয়ে ওঠার মতো?

শানারৈই দেবী শানু : ২০১৮ সালে আমরা শুটিং করেছি। তখন ধারাবাহিক নাটক হিসেবে শুটিং করলেও এটা আসলে সিনেমারই গল্প। বিশাল আয়োজন, সেট, গল্পের পরিসর সিনেম্যাটিক। অবশেষে হঠাৎ করেই সেই ‘সাত ভাই চম্পা’ মুক্তি পেল। আসলে বড় পর্দায় নিজেকে দেখার ইচ্ছা সবারই থাকে। সে কারণে আলাদা একটা রোমাঞ্চ কাজ করছে। এখন আলাদা করে বলব, চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো নয়। মানসিকভাবে এখন দর্শক স্থির নয়। সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার পরিবেশ কতটা আছে, সেটাও বিবেচ্য। তা ছাড়া সাত বছর আগে হলসংখ্যা ছিল অনেক। এখন হল কম। দর্শক পরিস্থিতি অনুযায়ী কতটা হলে যাবেন, সেটাও ভাবছি। বিভিন্ন মাধ্যমে সিনেমা দেখে দর্শকদের রুচিও বদলেছে। পার্থক্য অনেক।  আমাদের গল্পেও প্রচুর অ্যারেঞ্জমেন্ট রয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে শুটিং করেছি। আমাদের পুরো সেটের সবার মধ্যে বোঝাপড়া অনেক ভালো ছিল। তখনই সিনেমার মতো ফিল নিয়ে কাজ করা। যেভাবে বড় পরিসরে সিনেমাতে হয়। ছোট শিল্পীজীবনে এমন অভিজ্ঞতা খুবই কম হয়েছে।  ক্যারিয়ারের ২০ বছর পার করে ফেললাম। এটা অবশ্য কম নয় (হাসি)। তবে আমি ক্যারিয়ারে বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। সেটা কতটা পারছি, জানি না।ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, কর্মের জায়গায় সব সময় সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনি যে ইন্ডাস্ট্রি আমাকে নিয়ে কাজ করবে। শুরুর দিকে হয়তো আমাকে নিয়ে সেভাবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো চিন্তা করেনি। বলব, সুযোগ দেয়নি। ব্যাটে–বলে না মেলার কারণেও অনেক কাজ হয়নি। এ জন্য কাউকে দায়ী করব না। আমাদের এখানে অভিনয়ের পাশাপাশি শিল্পীদের কাজের জন্য নিজের জায়গা থেকে একটা কোলাবরেশন বজায় রাখতে হয়। এখানে আমার কমতি ছিল। যে কারণে আরও ভালো কাজ করার সুযোগ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি।  না, অভিমান নেই। তবে কিছু অতৃপ্তি তো রয়েছেই। আরও ভালো সুযোগ পেলে হয়তো নিজেকে প্রমাণ করতে পারতাম। সবার জীবনে একধরনের রূপান্তর বা পরিবর্তনের পর্ব আসে। সময় যাচ্ছে, ভাষা বদলে যাচ্ছে। নতুন নতুন মুখ এসেছে। এর মধ্যে এমন কাজ আমি শিল্পী হিসেবে করতে চাই না, যেখানে সমাজের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখন অনেক হালকা মেজাজের কাজ হচ্ছে। নিজেকে এই হালকা কাজে ভাবতে পারি না। যে কারণে অনেক কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। কাজ একদমই করছি না, তা নয়। আমি আড়ালে থাকা মানুষ। অন্তরালে থাকতেই পছন্দ করি। আমরা যেহেতু একটু আগের প্রজন্মের মানুষ, যে কারণে আমাদের সঙ্গে এই সময়ের ভাষাগুলো খুব একটা খাপ খায় না। যে কারণে আগের চেয়ে কম কাজ করতে হচ্ছে। এখানে নতুন প্রজন্মের যাঁরা আসছেন, তাঁরা কাজ করছেন। আমাদের আগে যাঁরা জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে গেছেন, তখনই তো আমরা জায়গাটা পেয়েছি। সময়টা তো একই রকম থাকে না। যে কারণে এখন অভিনয় থেকে আড়ালে থাকি। আবার লেখালেখিও করতে হয়। এটাও আমার বড় পরিচয়। সে কারণে বইমেলার আগে বা বছরের বিভিন্ন সময়ে আড়ালে থাকি। অভিনয়, লেখালেখি—দুটোর ভারসাম্য রাখতে হয়। সোহেল আরমানের ‘জলজোছনা’ নামে একটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। শিগগিরই আরেকটি ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবার বইমেলায় বই বের করি। এবার একটু দোদুল্যমান অবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন ভাবনায় ডুবে আছি। লেখক হিসেবে আমার কাজ করে যাচ্ছি।

এক রক্ত পরীক্ষায় ৫০ ধরনের ক্যানসার শনাক্ত, গবেষণায় অভূতপূর্ব সাফল্য

একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, এই রক্ত পরীক্ষা ক্যানসার শনাক্ত করার গতিও বাড়িয়ে দেয়।মার্কিন ওষুধ কোম্পানি গ্রেইলের গ্যালেরি টেস্ট নামে এই পরীক্ষাটি উত্তর আমেরিকায় প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এমন অনেক ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব যেগুলোর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশের জন্য এখনো কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং পদ্ধতি নেই।গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের অর্ধেকেরও বেশি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়েছে। যে পর্যায়ে ক্যানসারটি সহজে চিকিৎসাযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য অবস্থায় থাকে। এই পরীক্ষাটি টিউমার থেকে ভেঙে রক্তে মিশে যাওয়া ক্যানসার সৃষ্টিকারী ডিএনএ-এর অংশ শযুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে এই ট্রায়ালে এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় প্রতি ১০০ জনে একজনের টেস্ট পজিটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশের ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।নাক্ত করতে পারে।আর যাদের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ ছিল, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রেই পরীক্ষাটি সঠিকভাবে ক্যানসার না থাকার বিষয়টি নির্ধারণ করতে পেরেছিল।স্তন, অন্ত্র ও জরায়ুমুখের স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে এই রক্ত পরীক্ষা যুক্ত করা হলে ক্যানসার শনাক্তের হার ৭ গুণ বেড়ে যায়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের তিন-চতুর্থাংশই ছিল ডিম্বাশয়, যকৃৎ, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের মতো দেহের জটিল অংশগুলোর ক্যানসার, যেগুলোর জন্য বর্তমানে কোনো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই।এই রক্ত পরীক্ষাটি প্রতি ১০ টির মধ্যে ৯ টির ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ক্যানসারের উৎস সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছে। এই চমকপ্রদ ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এই রক্ত পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত নন এমন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রক্ত পরীক্ষা ক্যানসারজনিত মৃত্যুহার কমাতে পারবে কিনা, তা প্রমাণ করতে আরও শক্ত প্রমাণের প্রয়োজন।গবেষণার সম্পূর্ণ তথ্য এখনো কোনো স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। এর প্রাথমিক ফলাফল বার্লিনে ইউরোপীয় সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলোজি কংগ্রেসে প্রকাশ করা হবে।তবে এই পরীক্ষার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সেবা এনএইচএস-এর ১ লাখ ৪০ হাজার রোগীর ওপর পরিচালিত তিন বছরের একটি বড় ট্রায়ালের ফলাফলের ওপর, যা আগামী বছর প্রকাশিত হবে। এনএইচএস আগে জানিয়েছিল, যদি ফলাফল সফল হয়, তাহলে আরও ১০ লাখ মানুষের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হবে।এই গবেষণার প্রধান গবেষক ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির রেডিয়েশন মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিমা নবাবিজাদেহ বলেন, এই নতুন তথ্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই পরীক্ষা আমাদের ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের পদ্ধতিকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে। কারণ এটি অনেক ধরনের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে, যে পর্যায়ে চিকিৎসা বা সম্পূর্ণ আরোগ্যের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।তবে লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের ট্রান্সলেশনাল ক্যানসার জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ক্লেয়ার টার্নবুল সতর্ক করে বলেন, ‘গ্যালেরি টেস্ট দিয়ে আপাতদৃষ্টিতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলেও, এটি ক্যানসারজনিত মৃত্যু কমাতে আদৌ কোনো সুবিধা দেয় কিনা, তা বোঝার জন্য মৃত্যুর হারকে ভিত্তি ধরে র‍্যান্ডমাইজড স্টাডি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।এই রক্ত পরীক্ষার উদ্ভাবক গ্রেইল কোম্পানির বায়োফার্মা বিভাগের প্রেসিডেন্ট হারপাল কুমার বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে অনেক বেশি সংখ্যক ক্যানসার, বিশেষ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারগুলো আগেই শনাক্ত করতে পারব এবং চিকিৎসা ও আরোগ্যও সম্ভব হতে পারে।তবে ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নাসের তুরাবি বলেন, ‘যে ক্যানসারগুলো হয়তো ক্ষতিকর নয়, সেগুলো যাতে এই বাড়তি শনাক্তকরণে আওতায় না আসে সেটার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। ইউকে ন্যাশনাল স্ক্রিনিং কমিটি আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, এই পরীক্ষাগুলো ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএসের সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না।

ডেঙ্গুতে আরও দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭৯

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪২, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬৪, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং ময়মনসিংহে ৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৩০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৩৭ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৩৭ হাজার ২০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৪৭ জনের।
আর্কাইভ

আর্কাইভ

কক্সবাজারে স্টেডিয়ামে হামলা-ভাঙচুরে তদন্ত কমিটি গঠন

কক্সবাজারে স্টেডিয়ামে হামলা-ভাঙচুরে তদন্ত কমিটি গঠন

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন কক্সবাজারের ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।এর আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন।সাইফউদ্দীন শাহীন বলন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সার্বিক) নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করবে হামলা ভাঙচুরের বিষয়ে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অন্য কমিটি কাজ করবে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারির বিষয়ে।’
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আর্কাইভ

আর্কাইভ

গরমে বছরে নষ্ট ২৫ কোটি কর্মদিবস, দেশের আর্থিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকা

গরমে বছরে নষ্ট ২৫ কোটি কর্মদিবস, দেশের আর্থিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকা

আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে ‘অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যখন তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন কর্মীদের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’গবেষণায় ১৯৭৬-২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ২ ধাপের জরিপের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তথ্যানুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও অনুভূত তাপমাত্রা (‘ফিলস লাইক টেম্পারেচার’) ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে ডায়রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও ক্লান্তি বেড়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা, যেমন বিষণ্নতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, ‘তীব্র গরম শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমরা বাংলাদেশে দেখছি, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা আমাদের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব।’বর্তমানে উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজধানী ঢাকা তাপের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত শহর, যেখানে তাপসূচক জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির ঘটনা শীতকালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়। নারীরা তাপজনিত অসুস্থতায় বেশি ভোগেন। গরমের মাসগুলোতে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বাড়ে, যা বয়সের সঙ্গে বেড়ে চলে। ৫০-৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যে তাপজনিত সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।’এসব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে আর্থিক ক্ষতি বেশি হয়। বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ও প্রতিবেদনের সহ-লেখক ইফফাত মাহমুদ বলেন, ‘গরমে স্বাস্থ্য সমস্যা ও উৎপাদনশীলতা কমার মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র দেখা গেছে।’বিশ্ব ব্যাংক তাপপ্রবাহ থেকে জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য বহু-খাতভিত্তিক জাতীয় প্রস্তুতি বাড়ানো, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সজ্জিত করা ও শহরাঞ্চলে সবুজায়ন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
অনলাইন জরিপ

অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১৮ জন
আর্কাইভ

আর্কাইভ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সফর ও মতবিনিময় মানবিক করিডর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই করিডরের প্রস্তাবকে মানবিক প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এর আড়ালে ‘ভিন্নমুখী কৌশলগত’ উদ্দেশ্য বিদ্যমান বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।তাঁদের মতে, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে গোপনে সমর্থন দিয়ে চীনের প্রভাব কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আরাকান অঞ্চলের ভেতরে চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ যেমন— কিউকফিউ গভীর সমুদ্র বন্দর ও তেল-গ্যাস পাইপলাইনসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্বেগজনক। এমন প্রেক্ষাপটে রাখাইনে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বা মানবিক করিডর বাস্তবায়নের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে চাপে ফেলতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন।
০২ মে ২০২৫
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

আর্কাইভ

আর্কাইভ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সফর ও মতবিনিময় মানবিক করিডর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই করিডরের প্রস্তাবকে মানবিক প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এর আড়ালে ‘ভিন্নমুখী কৌশলগত’ উদ্দেশ্য বিদ্যমান বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।তাঁদের মতে, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে গোপনে সমর্থন দিয়ে চীনের প্রভাব কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আরাকান অঞ্চলের ভেতরে চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ যেমন— কিউকফিউ গভীর সমুদ্র বন্দর ও তেল-গ্যাস পাইপলাইনসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্বেগজনক। এমন প্রেক্ষাপটে রাখাইনে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বা মানবিক করিডর বাস্তবায়নের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে চাপে ফেলতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন।
০২ মে ২০২৫
ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে আইএসআইপ্রধান

ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে আইএসআইপ্রধান

০২ মে ২০২৫
আর্কাইভ

আর্কাইভ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সফর ও মতবিনিময় মানবিক করিডর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই করিডরের প্রস্তাবকে মানবিক প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এর আড়ালে ‘ভিন্নমুখী কৌশলগত’ উদ্দেশ্য বিদ্যমান বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।তাঁদের মতে, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে গোপনে সমর্থন দিয়ে চীনের প্রভাব কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আরাকান অঞ্চলের ভেতরে চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ যেমন— কিউকফিউ গভীর সমুদ্র বন্দর ও তেল-গ্যাস পাইপলাইনসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্বেগজনক। এমন প্রেক্ষাপটে রাখাইনে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বা মানবিক করিডর বাস্তবায়নের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে চাপে ফেলতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন।
০২ মে ২০২৫
আর্কাইভ

আর্কাইভ

দেশে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

দেশে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

অ্যানথ্রাক্স হলো ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট একটি তীব্র এবং মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মূলত গবাদিপশু থেকে মানুষে ছড়ায়। বাংলায় এটি তড়কা রোগ নামেও পরিচিত। এই নাম এসেছে গ্রিক শব্দ ‘অ্যানথ্রাক্স’ থেকে, যার অর্থ কয়লা। রোগের কারণে ত্বকে কালো ক্ষত কিংবা ঘা তৈরি হয়।বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিঅ্যানথ্রাক্স পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের মাটিতেই পাওয়া যায়। সুপ্ত দশায় এর স্পোর মাটির অভ্যন্তরে দীর্ঘকাল টিকে থাকে। তবে উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে রোগটি এখন বিরল বা বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। অন্যদিকে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে এটি এখনো এন্ডেমিক বা আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিছু আফ্রিকান দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।রোগ যেভাবে ছড়ায় অ্যানথ্রাক্স সাধারণত এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায় না। এটি স্পোরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।ত্বকের মাধ্যমে: ত্বকে কোনো ক্ষত বা কাটা স্থান দিয়ে স্পোর প্রবেশ করলে সংক্রমণ হয়। এটিই মানবদেহে অ্যানথ্রাক্সের সবচেয়ে সাধারণ রূপ।খাদ্যের মাধ্যমে: সংক্রমিত বা অসুস্থ পশুর মাংস ভালোভাবে রান্না না করে খেলে বা কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে।নিশ্বাসের মাধ্যমে: অ্যানথ্রাক্সের স্পোর নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে। জীবাণুযুদ্ধের ক্ষেত্রে এই পথই সবচেয়ে বিপজ্জনক।অ্যানথ্রাক্স রোগের লক্ষণ এ রোগের লক্ষণগুলো নির্ভর করে স্পোর শরীরের কোথায় প্রবেশ করছে তার ওপর। রোগের প্রকারভেদ ও প্রধান লক্ষণত্বকের অ্যানথ্রাক্সে প্রথমে ছোট চুলকানিযুক্ত ফোসকা বা প্যাপুল হয়। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেটি ফেটে গিয়ে একটি কালো রঙের, ব্যথাহীন ক্ষত বা এসচার সৃষ্টি করে, যা কয়লার মতো দেখায়। আশপাশের চামড়া ফুলে যেতে পারে।গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যানথ্রাক্সের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, রক্ত জমাট বাঁধা এবং গলা অথবা খাদ্যনালিতে ঘা হয়। তবে এটি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।নিশ্বাসের অ্যানথ্রাক্সের ক্ষেত্রে ফ্লুর মতো সাধারণ লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। জ্বর, ক্লান্তি, মাংসপেশিতে ব্যথা ইত্যাদি এর প্রধান লক্ষণ। তবে কয়েক দিনের মধ্যে তা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও শকে পরিণত হয়, যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।রোগনির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধপ্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ ও রোগীর ইতিহাস থেকে চিকিৎসকেরা অ্যানথ্রাক্স সন্দেহ করেন। তা ছাড়া ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ত্বকের কালো ক্ষত দেখে সন্দেহ করা হয়।ল্যাব পরীক্ষায় ত্বকের ক্ষত বা রক্ত থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গ্রাম স্টেইন ও ব্যাকটেরিয়ার কালচার পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।চিকিৎসাঅ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট রোগ হওয়ায় এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে। ত্বকের অ্যানথ্রাক্সের জন্য সাধারণত ডক্সিসাইক্লিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।নিশ্বাসের অ্যানথ্রাক্স মারাত্মক হওয়ার কারণে এর জন্য একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।প্রতিরোধঅ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধের জন্য ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি, যেখানে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে একত্রে দেখা হয়।পশুর টিকাদান: আক্রান্ত এলাকায় গবাদিপশুকে নিয়মিত অ্যানথ্রাক্স টিকা দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।নিরাপদ পশু জবাই: অসুস্থ পশুর মাংস খাওয়া বা জবাই করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মৃত বা অসুস্থ পশুর দেহ উন্মুক্ত না রেখে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে।ব্যক্তিগত সুরক্ষা: কসাই বা পশু নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষতযুক্ত ত্বকের মাধ্যমে সংক্রমণ এড়াতে রাবার গ্লাভস, মাস্ক ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার করা উচিত।মানুষের টিকা: সাধারণত সামরিক বাহিনীর সদস্য কিংবা ল্যাব কর্মীদের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য অ্যানথ্রাক্সের টিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি রুটিন টিকা নয়। সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপবেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সচেতন করতে হবে। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জনসাধারণের আতঙ্ক দূর করে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।প্রতিরোধ জরুরি» অ্যানথ্রাক্স প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা ভালো। তাই স্থানীয় ভাষায় পোস্টার, লিফলেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সের সব তথ্য উন্মুক্ত থাকা জরুরি। এতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে।
০২ মে ২০২৫
আর্কাইভ

আর্কাইভ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

মানবিক করিডর না ভূ-রাজনৈতিক কৌশল? সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সফর ও মতবিনিময় মানবিক করিডর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই করিডরের প্রস্তাবকে মানবিক প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এর আড়ালে ‘ভিন্নমুখী কৌশলগত’ উদ্দেশ্য বিদ্যমান বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।তাঁদের মতে, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে গোপনে সমর্থন দিয়ে চীনের প্রভাব কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আরাকান অঞ্চলের ভেতরে চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ যেমন— কিউকফিউ গভীর সমুদ্র বন্দর ও তেল-গ্যাস পাইপলাইনসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্বেগজনক। এমন প্রেক্ষাপটে রাখাইনে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বা মানবিক করিডর বাস্তবায়নের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে চাপে ফেলতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন।