Bangladesh Age

তরুণদের ডায়াবেটিস এক অশনিসংকেত

তরুণদের ডায়াবেটিস এক অশনিসংকেত

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের তরুণ বলা হয়। বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে এই তরুণদের মধ্যেও বিভিন্ন রকমের নন-কমিউনিকেবল রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। আগে মনে করা হতো, ডায়াবেটিস বয়স্ক মানুষের রোগ। কিন্তু এখন অল্প বয়সী তরুণদের মধ্যেও এই রোগ হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।


এদের মধ্যে টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু—উভয় ধরনের ডায়াবেটিসই দেখা যায়। তবে টাইপ টুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রায় ৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২৫ জনে ১ জন তরুণ-তরুণী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের অর্ধেকের বেশি জানেই না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে। কারণ, ডায়াবেটিস হলে শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না।


ডায়াবেটিসের লক্ষণ


শরীর দুর্বল লাগা

ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা

কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া

বারবার পিপাসা পাওয়া

শরীরে ব্যথা হওয়া

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া

চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব

মেজাজ খিটখিটে হওয়া

জটিলতা


দীর্ঘ মেয়াদে রক্তে উচ্চমাত্রার সুগার থাকলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিস ফুটের মতো জটিল সমস্যা। এখন তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে এসব সমস্যা বাড়ছে; যা তরুণদের অল্প বয়সে বৃদ্ধদের কাতারে ফেলে দিচ্ছে। এমনিতেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি। সেই সঙ্গে তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়তি হতাশা যোগ করেছে। অল্প বয়সে দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে তারা পরিবার এবং দেশের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


ঝুঁকিতে কারা


ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে

শারীরিক ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি

শারীরিক পরিশ্রম নেই

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে

রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি এবং উচ্চ রক্তচাপ আছে

যেসব মেয়ের পিসিওএস আছে

অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস

অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস

মানসিক বিষণ্নতা

বেশির ভাগ তরুণের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডায়াবেটিসের শুরুতে রক্তে উচ্চমাত্রায় সুগার পাওয়া যায়। কারণ, তারা বা পরিবারের লোকজন কখনো চিন্তাও করে না যে এত অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের শুরুতেই তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। যদি কোনো লক্ষণ দেখাও যায়, সে ক্ষেত্রে তরুণেরা এটাকে শারীরিক দুর্বলতা ভাবে। এই দুর্বলতা কাটাতে তারা নিজেরা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সুগার আরও বাড়তে থাকে।

প্রতিরোধ


ডায়াবেটিস একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবার আগে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়ামসহ সবকিছুতে তরুণদের ব্যাপক অনিয়ম দেখা যায়; যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত করছে।


বর্তমান সময়ে তরুণদের খাবারের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে ফাস্ট ফুড। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়ার কারণে তারা অল্প বয়সে মুটিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সব ফাস্ট ফুডই উচ্চ শর্করা এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত; যা তাদের ওবেসিটির অন্যতম কারণ। এর ফলে তাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ছে, উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে, মেয়েদের পিসিওএস হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই তরুণদের ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে, বাসায় তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারে আগ্রহী করে তুলতে হবে।


তরুণদের জীবনযাপনের আরেকটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে ঘুম। তাঁরা বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। বেশির ভাগ তরুণই রাত ৩টা বা ৪টার আগে ঘুমান না। আমরা জানি, রাতে দেরি করে ঘুমালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগ ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলেই হয়ে থাকে।


তাই তাদের রাতের আঁধারে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস করতে হবে।


এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে এখন মানসিক বিষণ্নতাও বাড়ছে। বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা তরুণদের স্কুল/কলেজ, কোচিং, টিউশনের বাইরে অন্য কোনো কোথাও রাখতে চান না। এ জন্য তাদের ডিভাইস আসক্তি বাড়ে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য তাদের খেলাধুলার সময় এবং জায়গা—কোনোটাই থাকে না। নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগও তেমন থাকে না; যা তরুণদের বিষণ্নতার অন্যতম কারণ।


করণীয়


ডায়াবেটিসকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বলা হয়। এটি কখনো ভালো হয় না, তবে চাইলে ভালো রাখা যায়। তবে ভালো রাখতে হলে আপনাকে ডায়েট, ডিসিপ্লিন ও ড্রাগ—এই তিন জিনিসের সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। তবে আপনি এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।


সে কারণে তরুণদের ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের সারা দিনের খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হেলথ চেকআপ করাতে হবে। প্রয়োজন হলে ওষুধ/ইনসুলিন নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া রাতের প্রথম ভাগে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।


তরুণদের এই ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া দেশের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। তরুণেরা আগামীর কান্ডারি। তারা এত অল্প বয়সে এমন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হলে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়বে। কারণ, দেশের প্রতিটি কল্যাণকর এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সুস্থ তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি থাকতে হবে।


লেখক: সিনিয়র পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল 


আপনার মতামত লিখুন

Bangladesh Age

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬


তরুণদের ডায়াবেটিস এক অশনিসংকেত

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের তরুণ বলা হয়। বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে এই তরুণদের মধ্যেও বিভিন্ন রকমের নন-কমিউনিকেবল রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। আগে মনে করা হতো, ডায়াবেটিস বয়স্ক মানুষের রোগ। কিন্তু এখন অল্প বয়সী তরুণদের মধ্যেও এই রোগ হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।এদের মধ্যে টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু—উভয় ধরনের ডায়াবেটিসই দেখা যায়। তবে টাইপ টুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রায় ৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২৫ জনে ১ জন তরুণ-তরুণী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের অর্ধেকের বেশি জানেই না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে। কারণ, ডায়াবেটিস হলে শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না।ডায়াবেটিসের লক্ষণশরীর দুর্বল লাগাঘন ঘন ক্ষুধা লাগাকারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়াবারবার পিপাসা পাওয়াশরীরে ব্যথা হওয়াঘন ঘন প্রস্রাব হওয়াক্ষত শুকাতে দেরি হওয়াচর্মরোগের প্রাদুর্ভাবমেজাজ খিটখিটে হওয়াজটিলতাদীর্ঘ মেয়াদে রক্তে উচ্চমাত্রার সুগার থাকলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি, ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিস ফুটের মতো জটিল সমস্যা। এখন তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে এসব সমস্যা বাড়ছে; যা তরুণদের অল্প বয়সে বৃদ্ধদের কাতারে ফেলে দিচ্ছে। এমনিতেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি। সেই সঙ্গে তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়তি হতাশা যোগ করেছে। অল্প বয়সে দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে তারা পরিবার এবং দেশের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।ঝুঁকিতে কারাডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছেশারীরিক ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশিশারীরিক পরিশ্রম নেইইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছেরক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি এবং উচ্চ রক্তচাপ আছেযেসব মেয়ের পিসিওএস আছেঅনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসঅনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসমানসিক বিষণ্নতাবেশির ভাগ তরুণের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডায়াবেটিসের শুরুতে রক্তে উচ্চমাত্রায় সুগার পাওয়া যায়। কারণ, তারা বা পরিবারের লোকজন কখনো চিন্তাও করে না যে এত অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের শুরুতেই তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। যদি কোনো লক্ষণ দেখাও যায়, সে ক্ষেত্রে তরুণেরা এটাকে শারীরিক দুর্বলতা ভাবে। এই দুর্বলতা কাটাতে তারা নিজেরা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সুগার আরও বাড়তে থাকে।প্রতিরোধডায়াবেটিস একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সবার আগে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়ামসহ সবকিছুতে তরুণদের ব্যাপক অনিয়ম দেখা যায়; যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত করছে।বর্তমান সময়ে তরুণদের খাবারের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে ফাস্ট ফুড। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়ার কারণে তারা অল্প বয়সে মুটিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সব ফাস্ট ফুডই উচ্চ শর্করা এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত; যা তাদের ওবেসিটির অন্যতম কারণ। এর ফলে তাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ছে, উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে, মেয়েদের পিসিওএস হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই তরুণদের ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে, বাসায় তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারে আগ্রহী করে তুলতে হবে।তরুণদের জীবনযাপনের আরেকটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে ঘুম। তাঁরা বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। বেশির ভাগ তরুণই রাত ৩টা বা ৪টার আগে ঘুমান না। আমরা জানি, রাতে দেরি করে ঘুমালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগ ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলেই হয়ে থাকে।তাই তাদের রাতের আঁধারে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস করতে হবে।এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে এখন মানসিক বিষণ্নতাও বাড়ছে। বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা তরুণদের স্কুল/কলেজ, কোচিং, টিউশনের বাইরে অন্য কোনো কোথাও রাখতে চান না। এ জন্য তাদের ডিভাইস আসক্তি বাড়ে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য তাদের খেলাধুলার সময় এবং জায়গা—কোনোটাই থাকে না। নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগও তেমন থাকে না; যা তরুণদের বিষণ্নতার অন্যতম কারণ।করণীয়ডায়াবেটিসকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বলা হয়। এটি কখনো ভালো হয় না, তবে চাইলে ভালো রাখা যায়। তবে ভালো রাখতে হলে আপনাকে ডায়েট, ডিসিপ্লিন ও ড্রাগ—এই তিন জিনিসের সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। তবে আপনি এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।সে কারণে তরুণদের ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের সারা দিনের খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হেলথ চেকআপ করাতে হবে। প্রয়োজন হলে ওষুধ/ইনসুলিন নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া রাতের প্রথম ভাগে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।তরুণদের এই ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া দেশের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। তরুণেরা আগামীর কান্ডারি। তারা এত অল্প বয়সে এমন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হলে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়বে। কারণ, দেশের প্রতিটি কল্যাণকর এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সুস্থ তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি থাকতে হবে।লেখক: সিনিয়র পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল 

Bangladesh Age

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোহাম্মদ নেওয়াজ আহমেদ পরশ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত Bangladesh Age